জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

দুর্গে ফাটল তৃণমূলের! বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে সেলফিতে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, ভোটের ফলের দিন চুঁচুড়ায় নজরকাড়া ছবি

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফল ঘোষণার দিন সকাল থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল যথেষ্ট উত্তপ্ত। বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল সামনে আসতেই কোথাও উল্লাস, কোথাও হতাশার ছবি ধরা পড়ে। বহু জায়গায় বিজেপি প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার খবর সামনে আসায় গেরুয়া শিবিরে বাড়তে থাকে উৎসাহ। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ, একাধিক কেন্দ্রে বিজেপির ভালো ফলের ট্রেন্ড ঘিরে কর্মী সমর্থকদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়। এই আবহেই হুগলির চুঁচুড়ায় দেখা গেল এক অন্য ছবি। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে সৌজন্যের বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর উপস্থিতিতে মুহূর্তে জমে ওঠে এলাকা। ভোটের উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনাই সবার নজর কেড়ে নেয়।

চুঁচুড়ার পিপুলপাতি মোড় এলাকায় এদিন পৌঁছন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে আগে থেকেই বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের ভিড় ছিল। ফলাফলের খবরে উচ্ছ্বসিত কর্মীরা রচনাকে সামনে দেখে তাঁর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। রাজনৈতিক মতভেদ সরিয়ে রেখে হাসিমুখে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় সাংসদকে। শুধু কথাবার্তাই নয়, অনেকের অনুরোধে সেলফিও তোলেন তিনি। বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে রচনার এই ছবি দ্রুতই নজরে আসে উপস্থিত বহু মানুষের। অনেকেই মোবাইলে সেই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেন। রাজনৈতিক আবহের দিনে এমন দৃশ্য নিয়ে এলাকায় চর্চা শুরু হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, তিনি একজন সাংসদ হিসেবে সবার প্রতিনিধি। তাই সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলা বা তাঁদের সঙ্গে ছবি তোলার মধ্যে তিনি কোনও সমস্যা দেখেন না। তিনি বলেন, “আমি সাংসদ হিসেবে সবার সঙ্গে কথা বলতেই পারি। সবাই মানুষ, তাই ছবি তুলতে আপত্তি নেই।” তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকেই সৌজন্যের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক বিভাজনের সময়ে এমন আচরণকে ইতিবাচক বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার ক্ষেত্রে রচনা বরাবরই স্বচ্ছন্দ, এদিনও তার ব্যতিক্রম দেখা যায়নি। উপস্থিত অনেকেই তাঁর ব্যবহার নিয়ে প্রশংসা করেন।

এদিন ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান প্রসঙ্গেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় রচনাকে। তার জবাবে তিনি বলেন, “রাম তো আমাদের ভগবান। পুজো করি। আমরা জয় বাংলা বলি। আমাদের ১৪ কোটি দেবতা।” তাঁর এই বক্তব্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মহলে। কেউ এটিকে কূটনৈতিক জবাব বলছেন, কেউ আবার রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তবে রচনার বক্তব্যে ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান ও নিজের দলের অবস্থান দুটিই উঠে এসেছে বলে মত অনেকে। নির্বাচনের আবহে এই মন্তব্য নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও তা নিয়ে নানা ব্যাখ্যা শুরু হয়েছে।

ভোটের ফল ঘোষণার দিন রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও চুঁচুড়ার এই ঘটনা আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। একদিকে বিজেপির উল্লাস, অন্যদিকে তৃণমূল সাংসদের সৌজন্যমূলক উপস্থিতি মিলিয়ে তৈরি হয়েছে অন্য ছবি। সাধারণত এমন দিনে রাজনৈতিক উত্তেজনাই বেশি চোখে পড়ে, কিন্তু সেখানে সেলফি ও সৌহার্দ্যের দৃশ্য অনেকের কাছে ব্যতিক্রমী লেগেছে। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আচরণ নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে বিভিন্ন মহলে। রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও সামাজিক সৌজন্য বজায় রাখা যায়, এমন বার্তাও দেখছেন অনেকে। ভোটের দিনে তাই চুঁচুড়ার এই মুহূর্ত বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। ভবিষ্যতেও এই ছবি রাজনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page