গত কয়েক ঘণ্টায় সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন জনপ্রিয় গায়িকা দেবলীনা নন্দী। নিজের জীবনের গভীর যন্ত্রণা লাইভে প্রকাশ করার পর চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে জীবন শেষ করার পথ বেছে নিলেও শেষ মুহূর্তে রক্ষা পান। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দেবলীনা, চিকিৎসকদের কথায় তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
এই ঘটনার পর দেবলীনাকে ঘিরে সামনে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। দেবলীনাৰ মা জানান, দীর্ঘ সময় ধরেই স্বামী প্রবাহের হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাঁর মেয়ে। শুধু তাই নয়, শ্বশুরবাড়ির তরফ থেকেও অপমান এবং মানসিক চাপ সহ্য করতে হয়েছে দেবলীনা ও তাঁর মাকে। এমনকি উৎসবের আগেই তাঁকে বাড়ি ছাড়তেও বাধ্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
রবিবার রাতে অসুস্থ অবস্থায় দেবলীনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকেই বন্ধু সায়ক দেবের করা একটি ভিডিওতে ধরা দেন তিনি। হাসপাতালের বিছানা থেকে কিছুটা আক্ষেপের সুরে দেবলীনা বলেন, তিনি অর্ধেক সিদ্ধান্ত নিতে চাননি, পুরোপুরি শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন। বন্ধুর মুখে এমন কথা শুনে সায়ক তাঁকে শক্ত করে বোঝান যে ঈশ্বর তাঁকে নতুন করে বাঁচার সুযোগ দিয়েছেন।
সেই ভয়ঙ্কর রাতের কথা বলতে গিয়ে দেবলীনা জানান, দীর্ঘ সময় নিজের মনের সঙ্গে লড়াই করেছেন তিনি। বহুবার ভেবেছিলেন স্বামী প্রবাহকে একটি বার্তা পাঠাবেন, কিন্তু জানতেন কোনও উত্তর আসবে না। এই উপেক্ষা আর নিঃসঙ্গতার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই শেষমেশ ঘুমের ওষুধ খান তিনি। অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও স্বামীর উপর ভরসা পাননি।
আরও পড়ুনঃ প্রবল শীতে তীব্র কষ্টে পথপ্রাণীরা! তথাগত ও শ্রীলেখার মানবিক উদ্যোগ মন খুশি করে দেবে আপনাদের
শেষ পর্যন্ত দেবলীনা যোগাযোগ করেন বন্ধু সায়কের সঙ্গে। প্রথমে বিষয়টিকে হালকা ভাবে নিলেও পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত ব্যবস্থা নেন সায়ক। গাড়ির চালক ও সহায়কদের মাধ্যমে তৎক্ষণাৎ দেবলীনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দেড় বছরের মানসিক চাপের কথা বলতে গিয়ে দেবলীনা জানান, সংসার আর সম্পর্কের চাপে নিজেকেই সবচেয়ে বেশি অবহেলা করেছেন তিনি। এখন নেটিজেনরা তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।
