প্রবল শীতে তীব্র কষ্টে পথপ্রাণীরা! তথাগত ও শ্রীলেখার মানবিক উদ্যোগ মন খুশি করে দেবে আপনাদের

শীতের আমেজে মেতেছে বাংলা। কলকাতা থেকে জেলার আনাচে কানাচে এ বছর তাপমাত্রার পতনে যেন দার্জিলিঙের স্বাদ পাচ্ছেন শহরবাসী। কিন্তু এই আনন্দের আড়ালে চাপা পড়ে যাচ্ছে এক নিঃশব্দ দুর্ভোগ। রাস্তার কুকুর বিড়াল আর পাখিদের জন্য এই প্রবল ঠান্ডা হয়ে উঠেছে বাঁচা মরা প্রশ্ন। গরমে কিংবা বর্ষায় যেমন লড়াই চলে, তেমনি শীতেও আশ্রয় আর উষ্ণতার অভাবে বিপন্ন তাদের জীবন। এই পরিস্থিতিতে পশুপ্রেমীদের মন ভারী। টলিপাড়ার কিছু পরিচিত মুখ তাই নীরবে নেমেছেন কাজে। মানুষের উষ্ণতা যে শুধু কম্বলে নয় আচরণেও, সেই কথাই বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন তাঁরা।

অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র নিজের এলাকার পথপ্রাণীদের জন্য নিয়মিত ব্যবস্থা করেন। রাস্তার কোনায় কোনায় বস্তা পেতে দেওয়া, সদ্যোজাত কুকুর ছানাদের জন্য আলাদা শোয়ার জায়গা বানানো, এমনকি কিছু কুকুরকে শীতের জামাও পরিয়ে দেওয়া তাঁর অভ্যাস। বাড়ির নীচে থাকা প্রিয় কুকুর কালুবাবুর জন্য প্রতি বছরই থাকে আলাদা বিছানা। তবু তাঁর আক্ষেপ গভীর। সকলের জন্য তো একা সব করা সম্ভব নয়। আরও কষ্ট পায় যখন তিনি দেখেন অনেকেই এই প্রাণীদের তাড়িয়ে দেয় বা আঘাত করে। শ্রীলেখার প্রশ্ন খুব সরল কিন্তু তীব্র। মানুষ হয়ে আমরা কি এতটুকুও সহানুভূতি দেখাতে পারি না।

অন্যদিকে অভিনেতা পরিচালক তথাগত মুখোপাধ্যায় শীত এলেই সচেতনতার ডাক দেন। নিজের বাড়ির পুরনো কম্বল রাস্তায় পেতে রাখা থেকে শুরু করে নিয়মিত যে জিমে যান সেখানে থাকা কুকুরদের শোয়ার ব্যবস্থা সবই তাঁর উদ্যোগ। কুকুর বিড়ালের পাশাপাশি পাখিদের কথাও ভাবেন তিনি। পিচবোর্ডের বাক্সে আশ্রয় তৈরি করা কিংবা বাড়ির আশপাশে থাকা পায়রাদের নিয়মিত খাবার দেওয়া তাঁর রুটিনের অংশ। তথাগত বিশ্বাস করেন মানুষ একটু বুঝলেই অনেক কষ্ট কমে যায়। শহরে কিছুটা সচেতনতা থাকলেও মফস্সল আর প্রত্যন্ত অঞ্চলের পথপ্রাণীদের অবস্থা ভাবিয়ে তোলে তাঁকে।

তথাগত বারবার অনুরোধ করছেন পরিত্যক্ত দোকান ঘর গ্যারাজ কিংবা ফাঁকা ঘর রাতে অন্তত খুলে রাখতে। শীতের রাতে এইটুকু আশ্রয়ই অনেক প্রাণ বাঁচাতে পারে। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন সমস্যার দিক আছে। অনেক সময় পথপ্রাণীদের জন্য রাখা কম্বল উধাও হয়ে যায়। কেউ নিজের প্রয়োজনে নিলে তা মানবিক কিন্তু নেশার জন্য বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনা তাঁকে ব্যথিত করে। এই ছবি আমাদের সমাজের জন্য লজ্জার বলে মনে করেন তিনি। মানবিকতা আর দায়বদ্ধতার জায়গায় বড় প্রশ্ন তুলে দেয় এই সব ঘটনা।

সবশেষে তথাগত একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতার কথা বলেন। শীতে বিড়ালরা প্রায়ই গাড়ির তলায় কিংবা ইঞ্জিনের কাছে আশ্রয় নেয়। তাই গাড়ি চালু করার আগে হর্ন দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। ছোট বিড়াল ছানারা অনেক সময় চাকার পাশে বা ভেতরে লুকিয়ে থাকে। সামান্য সচেতনতা তাদের জীবন বাঁচাতে পারে। শীত উপভোগের সঙ্গে সঙ্গে এই নীরব প্রাণগুলোর কথা ভাবাই এখন সবচেয়ে বড় মানবিক দায়িত্ব।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page