‘নেতারা গদিতে থাকেন, নেতাজি হৃদয়ে’, নেতাজিকে অপমান করায় অনন্ত মহারাজকে আয়না দেখালেন টোটা রায়চৌধুরী

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। নেতাজিকে ‘ওয়ার ক্রিমিন্যাল’ এবং ‘দেশদ্রোহী’ বলায় নানা মহল থেকে প্রতিবাদ এসেছে। এবার সেই বিতর্কে মুখ খুললেন অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরীও। নেতাজির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর বক্তব্য, নেতাজির জায়গা কোনও রাজনৈতিক নেতার গদিতে নয়, সাধারণ মানুষের হৃদয়ে।

অনন্ত মহারাজের মন্তব্যের প্রসঙ্গ উঠতেই টোটা রায়চৌধুরী নেতাজির ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দেন। তাঁর কথায়, নেতাজি ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান। রাজনৈতিক পদ বা ক্ষমতা সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে, কিন্তু নেতাজির অবদান এবং দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর লড়াই কখনও মুছে যাওয়ার নয়। এই কারণেই নেতাজিকে নিয়ে এমন মন্তব্য তিনি মেনে নিতে পারছেন না বলে জানান অভিনেতা।

নিজের বক্তব্যের পক্ষে ইতিহাসের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন টোটা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লেমেন্ট অ্যাটলির সঙ্গে স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত ছাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে নেতাজি ও তাঁর আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রভাবের কথা উঠে এসেছিল। তাই নেতাজিকে নিয়ে কে কী মন্তব্য করলেন, তাতে তাঁর ঐতিহাসিক গুরুত্ব কোনওভাবেই কমে না বলেই মনে করেন অভিনেতা।

এদিকে অনন্ত মহারাজের মন্তব্যের পর রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে তাঁর ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে নিজের মন্তব্যের জন্য সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে নিঃশর্ত ক্ষমা চান অনন্ত মহারাজ।

বর্তমানে বিপ্লবী অনন্ত সিংয়ের জীবন অবলম্বনে তৈরি ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ ছবিতে অভিনয় করছেন টোটা রায়চৌধুরী। স্বাধীনতা দিবসের আবহে নেতাজিকে নিয়ে এই বিতর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অভিনেতা। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক নেতাদের পদ ও ক্ষমতা সাময়িক হতে পারে, কিন্তু নেতাজির ত্যাগ, সাহস এবং দেশের জন্য লড়াই ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page