সারেগামাপার ফাইনালে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ! আরাত্রিকা-অনীকের পরাজয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন দর্শকরা!

টেলিভিশনের জনপ্রিয় সংগীত প্রতিযোগিতা সারেগামাপা বরাবরই বাংলা দর্শকদের বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। নতুন প্রতিভাদের সুযোগ করে দেওয়া থেকে শুরু করে বাংলার সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া—এই শো-এর যাত্রা দীর্ঘদিনের। তবে প্রতিবারের মতো এবারেও চূড়ান্ত পর্বের ফলাফল ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। বিজয়ীদের নাম ঘোষণার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

এমনটা নতুন নয়। প্রতিটি সিজনের শেষে কিছু না কিছু বিতর্ক তৈরি হয়। কখনো বিচারকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে, কখনো দর্শকদের পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব না দেওয়া নিয়ে। বিশেষত, যখন কোনো প্রতিযোগী দর্শকদের ফেভারিট হয়েও শীর্ষস্থান অধিকার করতে পারেন না, তখনই প্রশ্ন ওঠে নিরপেক্ষতার। এবারের গ্র্যান্ড ফিনালেও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে, আর সেই কারণেই সোশ্যাল মিডিয়া উত্তাল।

রবিবার, ২ মার্চ, সারেগামাপার গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সিজনে বড়দের মধ্যে দেয়াশিনী প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান পেয়েছেন যথাক্রমে ময়ূরী-সাঁই ও সত্যজিৎ। অন্যদিকে, ছোটদের বিভাগে প্রথম হয়েছে অতনু, দ্বিতীয় ঐশী, এবং তৃতীয় হয়েছে অনীক। এই তালিকায় একটি বিশেষ নাম আরাত্রিকা, যিনি কোনো নির্দিষ্ট স্থান না পেলেও কালিকাপ্রসাদ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। তবে দর্শকদের একাংশের দাবি, শুধুমাত্র এই বিশেষ সম্মাননা দিয়ে তাঁকে খুশি করা হয়েছে, কিন্তু তাঁর প্রকৃত যোগ্যতার যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। আর এখান থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত।

ফাইনালের পর জি বাংলা-র অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থেকে যখন দর্শকদের মতামত জানতে চাওয়া হয়, তখনই শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। কেউ কেউ সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে আরাত্রিকাকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি। একজন লিখেছেন, “প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দেখে মনে হয়েছে, বাংলা গানের প্রতিযোগিতায় বাংলা গানকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়নি!” অন্যদিকে, আরেকজন লিখেছেন, “সুজিত বসু দর্শকাসনে ছিলেন, আরাত্রিকার জন্য জায়গা হবে, তা তো অসম্ভব!” শুধু আরাত্রিকাই নয়, ক্ষুব্ধ অনীকের অনুরাগীরাও। তাঁদের মতে, অতনুর সঙ্গে অনীককে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন করা উচিত ছিল। এক দর্শক মন্তব্য করেছেন, “অনীককে শুধু টিআরপি-র জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। বিচারকদের বিচার নয়, ওর বিচার করবে ঈশ্বর।”

এই বিতর্কের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি উঠেছে বিচারকদের রায়ের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার। অনেকেই মনে করছেন, জনপ্রিয় প্রতিযোগীদের দর্শকদের প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী বিচার না করে, একপেশে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সারেগামাপার মত বড় মঞ্চে এমন ঘটনা বারবার ঘটতে থাকলে প্রতিযোগীদের ভবিষ্যৎ কতটা নিরাপদ থাকবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে। এই পরিস্থিতিতে চ্যানেল বা বিচারকরা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই বিতর্ক যে সহজে থামবে না, তা বলাই যায়।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page