আজকের ব্যস্ত জীবনে অনেকেই রান্নাঘরে বেশি সময় কাটাতে পারেন না। তবু অতিথি এলে বা হঠাৎ মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করলে? তখন কিছু বানানোর ইচ্ছা তো থাকেই সবার। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সহজ কিন্তু সুস্বাদু একটি ডেসার্ট হতে পারে ‘ভাপা দই’ (Bhapa Doi)। অল্প সময়ের মধ্যে তৈরি করা যাবে, আবার স্বাদেও কোনও কমতি থাকবে না। ভাবছেন তো, কী করে সম্ভব? এই সহজ রেসিপিটিকে আরও দ্রুত আর আধুনিকভাবে বানানোর একটি উপায় রয়েছে, যা নতুন প্রজন্মের ব্যস্ত জীবনের সঙ্গে এক্কেবারে মানানসই।
এই ভাপা দই বানানোর জন্য খুব বেশি কিছু লাগে না, বেশির ভাগ উপকরণই সবার রান্নাঘরেই পাওয়া যায়। এক কাপ ঘরে পাতা দই ভালো করে ফেটিয়ে নিতে হয়, যাতে মিশ্রণটি মসৃণ হয়। এরপর তার সঙ্গে কনডেন্সড মিল্ক বা গাঢ় দুধ মিশিয়ে নিতে হবে। স্বাদ বাড়ানোর জন্য অল্প একটু কেশর, সামান্য এলাচগুঁড়ো এবং দু’চামচ মতো বাদামকুচি দেওয়া যেতেই পারে। পুরো মিশ্রণটি ধীরে ধীরে নাড়তে হবে যাতে সব উপকরণ ভালোভাবে মিশে যায় এবং মোলায়েম ভাব তৈরি হয়।
এরপর মাইক্রোওভেনে দেওয়ার উপযুক্ত একটি পাত্র নিতে হবে। তা না থাকলে, গ্যাসেও করা যেতে পারে। সেই ক্ষেত্রে একটি কড়াই বসিয়ে তাতে সামান্য জল গরম করতে হবে, এরপর উচ্চতা বজায় রাখতে একটা পাত্র উল্টো করে বসিয়ে তারপর দইয়ের পাত্রটা বসাতে হবে। তবে, এখানেই রয়েছে আরও একটা মজার ব্যাপার। ভাপা দইতে যদি ফিউশনের স্বাদ আনতে চান, একটি পাকা কলা পাতলা করে কেটে দইয়ের পাত্রের তলায় সাজিয়ে দিতে পারেন।
এতে ডেসার্টটির স্বাদে অন্যরকমও হবে আর মিষ্টি ঘ্রাণ যোগ হবে। সেই কলার উপর দইয়ের তৈরি মিশ্রণটি ঢেলে দিতে হবে। তারপর পাত্রটি মাইক্রোওভেনে রেখে প্রায় আড়াই মিনিট গরম করতে হবে, গ্যাসে হলে পাঁচ থেকে আট মিনিট। খুব বেশি সময় লাগে না, আর এই অল্প সময়েই দইয়ের মিশ্রণটি জমে নরম ভাপা দইয়ের আকার নিতে শুরু করে। মাইক্রোওভেন থেকে বের করার পর বা গ্যাস থেকে নামিয়ে, মিশ্রণটি কিছুক্ষণ স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ঠান্ডা হতে দিতে হবে।
আরও পড়ুনঃ “মেয়ে বলেছিল তখন, পাঁচ বছর আগে একটা প্রস্তাব…” আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন অনামিকা সাহা? ভোট ময়দানে লড়াইয়ের জল্পনায় তোলপাড় টলিউড, কী উত্তর বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর?
এরপর সেটি ফ্রিজে রেখে দিলে আরও ভালোভাবে সেট হয়ে যাবে। সাধারণত দুই থেকে চার ঘণ্টা ফ্রিজে রাখলে ভাপা দই খাওয়ার মতো হয়ে যায়। ঠান্ডা অবস্থায় পরিবেশন করলে এর স্বাদ আরও ভালো লাগে, বিশেষ করে খাবারের শেষে মিষ্টি হিসেবে। ব্যস্ততার মাঝেও ঘরে বানানো খাবারের আলাদা আনন্দ আছে। অল্প কিছু উপকরণ আর কয়েক মিনিট সময় দিয়েই যদি এমন কিছু তৈরি করা যায়, তাহলে অতিথি আপ্যায়নেও কাজে লাগে, আবার নিজের পরিবারের জন্যও একটি সহজ বিকল্প হয়ে ওঠে। রান্না করতে খুব বেশি দক্ষতা না থাকলেও এই রেসিপি চেষ্টা করে দেখা যেতেই পারে!
