প্রেমের সপ্তাহ মানেই এখন উৎসবের আবহ। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভালোবাসার উদ্যাপন যেন এক বিশেষ সময় হয়ে উঠেছে নতুন প্রজন্মের কাছে। তবে এই সময়েই সামনে আসে সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্নও। কেউ বিশ্বাস হারাচ্ছে, কেউ আবার আরও দৃঢ়ভাবে সম্পর্ককে আঁকড়ে ধরছে। এই আবহেই সম্পর্ককে দীর্ঘদিন সতেজ রাখার মন্ত্র শোনালেন দুই জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং ভাগ্যশ্রী।
কলকাতায় একসঙ্গে আড্ডায় বসে দুই নায়িকা ভাগ করে নিলেন সম্পর্ক নিয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের উষ্ণতায় ভর করে উঠে এল বর্তমান প্রজন্মের সম্পর্ক ভাবনা নিয়েও আলোচনা। ভাগ্যশ্রী জানালেন, তাঁর সন্তানরাই প্রায়ই প্রশ্ন করে কীভাবে এত বছর একই সম্পর্কে স্থির থাকা সম্ভব। উত্তরে তিনি বলেন, সম্পর্কের উত্তেজনা বাঁচিয়ে রাখতে হলে একে অপরকে নতুন ভাবে আবিষ্কার করতে হয়, ঠিক যেমন প্রেমের শুরুতে করতাম।
ভাগ্যশ্রীর মতে, সম্পর্কের মধ্যে নতুনত্ব আনার জন্য সচেতন চেষ্টা জরুরি। শুধু দায়িত্ব নয়, আনন্দও ভাগ করে নিতে হয়। মাসে অন্তত এক বা দুইবার ডেটে যাওয়া, একসঙ্গে সময় কাটানো বা পুরোনো স্মৃতি ফিরিয়ে আনা সম্পর্ককে অন্য স্বাদ দেয়। তিনি মনে করেন, স্বামী স্ত্রীর পরিচয়ের বাইরে একজন মানুষ হিসেবে একে অপরকে চেনার প্রক্রিয়াই সম্পর্ককে গভীর করে। ছোট ছোট মুহূর্তই তৈরি করে বড় আবেগ।
এই প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেন ঋতুপর্ণাও। তিনি জানান, তাঁর সম্পর্ক কিছুটা দূরত্বের উপর দাঁড়িয়ে। তবু সেই দূরত্বই তাঁদের সম্পর্ককে অন্যভাবে দৃঢ় করেছে। নিজের জীবনের ছোট ছোট উদ্যোগের কথাও বলেন তিনি। স্বামীর সুবিধার জন্য গাড়ি চালানো শেখা কিংবা একে অপরের প্রয়োজন বোঝা— এইসব ছোট যত্নই সম্পর্ককে আরও মজবুত করে তোলে বলে তাঁর বিশ্বাস।
আরও পড়ুনঃ “শ্বশুরবাড়িও তোমার কর্মের সঙ্গে যুক্ত…তিন কুলে দিয়ে বাতি উজ্জ্বলাবতী!” দিদিমার আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যায় মুগ্ধ ছোট্ট অপরাজিতা আঢ্য, পেয়েছিলেন জীবনের বড় শিক্ষা! আজও মঙ্গল কামনায় নিয়ম করে পালন করেন কোন সেই আচার?
শেষ পর্যন্ত দুই অভিনেত্রীর কথায় স্পষ্ট, সম্পর্ক টিকে থাকে সচেতন ভালোবাসায়। সময় দেওয়া, নতুনত্ব আনা, ছোট ছোট যত্ন— এগুলোই দীর্ঘ সম্পর্কের ভিত শক্ত করে। নতুন প্রজন্ম এই ভাবনাকে কতটা গ্রহণ করবে তা সময়ই বলবে। তবে তাঁদের অভিজ্ঞতা বলছে, সম্পর্কের সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে যত্নে, মনোযোগে আর প্রতিদিনের ছোট ছোট ভালোবাসার প্রকাশে।
