টলিউডের অতি পরিচিত মুখ ‘অপরাজিতা আঢ্য’কে (Aparajita Adhya) দর্শকরা বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন চরিত্রে দেখেছেন। কখনও হাস্যরসাত্মক, কখনও গভীর আবেগঘন ভূমিকায় আবার সম্প্রতি ‘দুর্গা’ ছবিতে, নারীশক্তির উদযাপন করতে। কিন্তু আলো-ক্যামেরার বাইরে তাঁর জীবন একেবারেই অন্যরকম। তিনি নিজেই বলেন যে ঘর সামলানো, রান্নাঘরে সময় দেওয়া কিংবা ছোটখাটো কাজ নিজের হাতে করার মধ্যেই তিনি একধরনের শান্তি খুঁজে পান। এই অভ্যাস তাঁর নতুন করে তৈরি হয়নি, বরং ছোটবেলা থেকেই সংসারের কাজে হাত লাগানো ছিল তাঁর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার অংশ।
শৈশবের একটি বিশেষ স্মৃতি এখনও তাঁর মনে খুব স্পষ্ট। কার্তিক মাস এলেই তাঁদের বাড়িতে একটি বিশেষ পুজোর আয়োজন হতো, আর সেই দায়িত্ব থাকত বাড়ির ছোটদের ওপর। মায়ের তত্ত্বাবধানে তিনিই পুজোর বেশ কিছু কাজ করতেন। বাগানে ছোট্ট পুকুরের মতো জায়গা বানিয়ে তার মাঝে তুলসী গাছ বসানো, প্রদীপ তৈরি করা, সবই ছিল সেই আয়োজনের অংশ। তখন বাজারে সহজে মাটির প্রদীপ মিলত না, তাই নিজেরাই বাগানের মাটি কেটে প্রদীপ গড়তেন।
সন্ধ্যা নামলে সেগুলো জ্বালানো হতো নিয়ম মেনে, পাতার ওপর সাজিয়ে। এই ব্রত পালন করতে গিয়ে একটি মন্ত্র উচ্চারণ করতে হতো, যার মধ্যে ছিল তিন কুলের মঙ্গলকামনা। ছোট্ট বয়সে এই কথাগুলোর অর্থ তিনি পুরো বুঝতেন না। বিশেষ করে ‘শ্বশুরকুল’ শব্দটি তাঁকে প্রতিবার ভাবতে বাধ্য করত। তখনও তো বিয়ে হয়নি, তা হলে কেন এই উচ্চারণ? কৌতূহল চেপে রাখতে না পেরে একদিন দিদিমাকে প্রশ্ন করেছিলেন তিনি।
দিদিমার উত্তর ছিল সহজ অথচ গভীর। তিনি বোঝান, মানুষের সম্পর্ক শুধু এই জন্মে গড়ে ওঠে না, দায়িত্ব আর বন্ধনের সূত্র অনেক বিস্তৃত! তাই ভবিষ্যতে যে পরিবারে তাঁর বিয়ে হবে, তাদের প্রতিও দায়িত্ববোধ এখন থেকেই থাকা জরুরি! তিন কুলের উদ্দেশে আলো জ্বালানো মানে শুধু আচার মানা নয়, বরং নিজের পরিধি বাড়ানো। নিজের পরিবার যেমন, তেমনই অন্য পরিবারের প্রতিও সমান যত্ন নেওয়ার শিক্ষা লুকিয়ে আছে এই নিয়মে।
আরও পড়ুনঃ সিঁথিতে চওড়া সিঁদুর, ছোটপর্দার দাপুটে খলনায়িকা চুপিসারে সারলেন বিয়ে! দীর্ঘদিনের সঙ্গীর সঙ্গে, প্রেমের মাসেই সাতপাকে বাঁধা পড়লেন পামেলা কাঞ্জিলাল! পাত্রের পরিচয় কী?
আজ বড় হয়ে তিনি বুঝতে পারেন, ছোটবেলার সেইসব আচার আসলে জীবনবোধেরই পাঠ ছিল। তখন হয়তো শুধুই বড়দের কথা মেনে কাজ করতেন, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই শিক্ষার মূল্য উপলব্ধি করেছেন। সংসার এবং কাজের চাপের মাঝেও যে ভারসাম্য তিনি ধরে রাখতে পারেন, তার পিছনে রয়েছে এই ছোট ছোট অভ্যাসের প্রভাব। অভিনয়ের বাইরে তাঁর এই সহজ, দায়িত্বশীল মানুষটিকেই হয়তো সবচেয়ে বেশি সত্য বলে মনে হয়।
