দূরদর্শনের পর্দায় মহালয়ার ভোর মানেই শক্তিশালী অসুররূপে অমল চৌধুরীর স্মরণীয় উপস্থিতি। সেই দৃপ্ত দৃষ্টির আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক নিঃসঙ্গ জীবনসংগ্রাম। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর সকলের অগোচরে অশোকনগরের বাড়িতেই প্রয়াত হলেন বছর ছেষট্টির এই শিল্পী। খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে পরিচিত মহলে। তাঁর চলে যাওয়া যেন মহালয়ার এক আবেগঘন অধ্যায়ের সমাপ্তি।
প্রতিবেশীদের কথায় জানা যায়, বুধবার অনেকবার ডাকাডাকি করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। শেষে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে তাঁকে নিথর অবস্থায় পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। অশোকনগর থানার পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। একাকী জীবনযাপনের কারণে শেষ সময়ে তাঁর পাশে তেমন কেউ ছিলেন না, এই কথাই আরও বেশি কষ্ট দিচ্ছে সকলকে।
অমল চৌধুরী শুধু মহালয়াতেই নয়, বেশ কয়েকটি সিনেমা ও মেগাতেও কাজ করেছেন। অভিনয়ের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ছিল প্রশ্নাতীত। তবুও জীবনের শেষ অধ্যায়ে চরম আর্থিক সংকটে ভুগেছেন তিনি। ঠিকমতো চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য ছিল না, এমনকি নিয়মিত খাবার জোটানোও কঠিন হয়ে পড়েছিল। প্রতিবেশীরা সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করলেও তা ছিল অপ্রতুল।
একটি দুর্ঘটনার পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। অবিবাহিত অমলবাবু নিজের ছোট্ট বাড়িতে একাই থাকতেন। সময় সুযোগে আশপাশের মানুষ খোঁজখবর নিতেন, কিন্তু নিয়মিত দেখভালের কেউ ছিল না। তাঁর সংগ্রামী জীবন যেন সমাজের অবহেলার এক নীরব প্রতিচ্ছবি হয়ে রইল।
আরও পড়ুনঃ গোপালের বিদায়ের রেশ কাটতেই নতুন ধাক্কা! দ্রোণের পর এবার রিয়াজও ছাড়তে পারেন ‘পরিণীতা’? সমাজ মাধ্যমে ইতিমধ্যেই দর্শকদের উত্তেজনা তুঙ্গে, হতে পারে ‘মল্লার’ চরিত্রের মুখ বদল! নেপথ্যে আসল কারণ কী?
আজ বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার কথা। শিল্পীর মৃত্যু ফের মনে করিয়ে দিল, জনপ্রিয়তার আলো ম্লান হলে অনেক শিল্পীকেই নিঃসঙ্গতা ও অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে হয়। মহালয়ার ভোরে যাঁর অভিনয় দর্শকদের শিহরিত করত, তাঁর শেষ বিদায় সেই দর্শকদের হৃদয়ে গভীর শূন্যতা তৈরি করে গেল।
