জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“আমার ঈশ্বরকে এমন কটূক্তি!” মহিলা ভক্তদের ‘বুড়ি’ বলে লাগাতার কটাক্ষ, নারী দিবসে ট্রোলারদের ধুয়ে দিলেন জিতু কমল!

টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা জীতু কমল ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দা সব জায়গাতেই নিজের অভিনয়ের দাপট দেখিয়েছেন। তাঁর অভিনয় যেমন দর্শকদের মন জিতেছে, তেমনই তাঁর ভক্তসংখ্যাও কম নয়। বিশেষ করে মহিলা ভক্তদের সংখ্যা তাঁর ক্ষেত্রে অনেক বেশি। কিন্তু এই ভক্তদের নিয়েই প্রায়শই সোশ্যাল মিডিয়ায় কটূক্তি করা হয়। অনেকেই তাঁদের বয়স নিয়ে বিদ্রূপ করে নানা অপমানজনক মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিনে সেই সব ট্রোলারদের উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দিলেন অভিনেতা। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি স্পষ্ট জানালেন, যাঁরা তাঁকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসেন এবং সমর্থন করেন, তাঁদের অসম্মান তিনি মেনে নিতে পারেন না।

জীতু তাঁর পোস্টে লিখেছেন, যাঁরা তাঁকে নিজের পরিবারের সদস্যের মতো গ্রহণ করেছেন তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী। কেউ তাঁকে ছেলের মতো দেখেন, কেউ ভাইয়ের মতো, আবার কেউ কেউ তাঁকে ভালোবাসার মানুষ হিসেবেও মনে করেন। এই সম্পর্কগুলোর মধ্যে রয়েছে নিখাদ আন্তরিকতা এবং স্নেহ। তিনি আরও বলেন, যদিও নারী দিবসকে কেন্দ্র করে আলাদা করে কোনও মতাদর্শের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে চান না, তবু মানুষের প্রতি সম্মানই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। তাই যাঁরা তাঁকে ভালোবাসেন, তাঁদের সম্মান রক্ষা করাটা তাঁর দায়িত্ব বলেই মনে করেন অভিনেতা।

অভিনেতার মতে তাঁর কাজের জগতে তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পিছনে নারীদের অবদান অনেক বেশি। তাঁর কথায়, তাঁর পেশার জগতে যাঁরা তাঁকে শক্তি জুগিয়ে চলেছেন তাঁদের সিংহভাগই নারী এবং শিশু। পুরুষ ভক্তও আছেন, তবে সংখ্যায় কিছুটা কম। তবু তিনি সকল ভক্তকেই সমান সম্মান করেন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় কিছু মানুষ তাঁর মহিলা ভক্তদের বয়স নিয়ে কটাক্ষ করেন এবং তাঁদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই আচরণকে তিনি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মনে করেন এবং সেখান থেকেই নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

পোস্টে জীতু আরও লিখেছেন, যারা অন্যকে বুড়ি বা বয়স্ক বলে অপমান করে তারা যেন একবার নিজেদের পরিবারকে মনে করে। কারণ প্রত্যেক মানুষের মা বয়স্ক হন, ঠাকুমা বুড়ি হন, আর বোনদের জীবনেও বয়সের ছাপ পড়ে যায়। অথচ সেই বাস্তবতাকে ভুলে গিয়েই কিছু মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যকে আঘাত করতে দ্বিধা করেন না। তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, অনেক সময় নিজের জীবনের হতাশা থেকেই এই ধরনের আচরণ আসে। সঠিক কাজ বা স্থিতিশীল জীবন না থাকার হতাশা অনেককে অন্যকে ছোট করতে প্ররোচিত করে।

শেষে অভিনেতা জানিয়েছেন, তাঁর কাছে ভক্তরা ঈশ্বরের মতো। তাঁদের মধ্যেই তিনি শক্তি খুঁজে পান। অনেক মহিলা ভক্ত নিয়মিত তাঁর জন্য প্রার্থনা করেন, উপহার পাঠান, বই পাঠান বা চিঠি লিখে তাঁর মনোবল বাড়ান। একজন শিল্পীর কাছে এই ভালোবাসা অমূল্য বলেই মনে করেন তিনি। তাই আলাদা করে নারী দিবসের শুভেচ্ছা না জানালেও তিনি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সেই সব নারীদের প্রতি, যাঁরা নিঃস্বার্থভাবে তাঁর পাশে থাকেন। তাঁর এই বক্তব্যে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু মহিলা ভক্ত অভিনেতার প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page