ওজন কমানোকে সুস্থ থাকার প্রক্রিয়া মনে করেছিলেন শঙ্কর চক্রবর্তী, কিন্তু তার পরিণতি ভিন্ন রকম হয়েছে। আগে যেমন ছিপছিপে ছিলেন, এখন তাকে দেখে অনেকেই মনে করছেন, তিনি অসুস্থ। শঙ্কর নিজেই জানাচ্ছেন, এই কারণে তার কাজের পরিসরও কমে গেছে। একের পর এক ধারাবাহিক, সিনেমা, এবং সিরিজ থেকে বাদ পড়েছেন। তবে সম্প্রতি তিনি তিনটি নতুন ছবির শুটিং শেষ করেছেন। তার মধ্যে একটির পরিচালনা করেছেন অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়, আরেকটি সুমন মুখোপাধ্যায়, এবং তৃতীয়টির পরিচালক শীর্ষেন্দু বর্মা শোধ।
এই তিনটি ছবিতে শঙ্করের চরিত্রও একে অপর থেকে আলাদা। অগ্নিদেবের ‘চোর’ ছবিতে তাকে পুলিশ আধিকারিক হিসেবে দেখা যাবে, সুমনের ছবিতে তার বিপরীতে থাকবেন চঞ্চল চৌধুরী। শঙ্কর নিজেও জানিয়েছেন, এই ছবিতে তার সঙ্গে প্রায় সব দৃশ্য চঞ্চলের। শীর্ষেন্দুর ‘তোর আশিকী’ ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের বাবার চরিত্রে, যার জীবনের স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়া, কিন্তু সেই স্বপ্ন তিনি পূরণ করতে পারেননি। তবে তার পরবর্তী স্বপ্ন হলো, তার ছেলে যেন সেই স্বপ্ন পূর্ণ করতে পারে।
কাজের ক্ষেত্রেও শঙ্করের অভিজ্ঞতা মিশ্রিত। একের পর এক কাজ হাতছাড়া হওয়ার পর, এখন তিনি মূলত নতুনদের সঙ্গে কাজ করছেন। তার মতে, যখন কাজের সুযোগ কমে আসে, তখন একে একে সব ধরনের কাজ নিতে হয়। শঙ্কর বলেন, “আমি টিকে থাকতে চাই, উপার্জনও করতে হবে। আর নতুনদের সঙ্গে কাজ করলে তাদেরও সুযোগ হয় ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচিত হওয়ার।” একে অপরের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তার কোন সমস্যা হয়নি, বরং নতুনদের সঙ্গে কাজ করে তিনি আনন্দ পেয়েছেন।
এদিকে, শঙ্কর আরও জানান, ওজন কমানোর পর তার চেহারা নিয়ে অনেকেই ভুল ধারণা তৈরি করেছেন। তাদের মতে, তিনি অসুস্থ, অথচ এমন কোনো সমস্যা নেই। এই কারণে তিনি ভাবছেন, এবার খালি গায়ের ছবি দিলে মানুষ বুঝতে পারবে, তিনি সুস্থ আছেন। শঙ্করের কথায়, “তারা হয়তো ভাবছেন, আমি অসুস্থ, কিন্তু আসলে আমি পুরোপুরি সুস্থ আছি।” তিনি আরও বলেন, “এটা নিয়ে আমি আর বেশি চিন্তা করছি না, তবে যেটুকু সুযোগ পাচ্ছি, সেটাতে কাজ করছি।”
আরও পড়ুনঃ গুরুতর অসুস্থ পরিচালক অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়, মাইগ্রেন ভেবে ভুল করেছিলেন, একাধিক স্ট্রোকে হাসপাতালে ভর্তি সুদীপা চ্যাটার্জীর স্বামী
শেষে শঙ্কর তার উপার্জনের ব্যাপারে বলেন, “ভালো চরিত্র পেলেই কাজ করি, তবে উপার্জনও দরকার।” তার এই বক্তব্য মিলে যায় সদ্য প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ভালো চরিত্র পেলে উপার্জন নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন পড়ে না, তবে জীবনধারণের জন্য কিছু না কিছু তো দরকারই।
