জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

প্রথমবার মেগা সিরিয়ালে অনির্বাণের স্ত্রী মধুরিমা গোস্বামী! মাত্র ৮ বছরের ছোট সৌম্যদীপের মায়ের চরিত্রে দেখে তাঁকে কী বলছেন দর্শকরা? ‘অন্নপূর্ণার লক্ষ্মীরা’-য় কেমন লাগছে ‘রাজার মা’কে?

মঞ্চের পরিচিত মুখ, মূকাভিনয় শিল্পী নিরঞ্জন গোস্বামীর কন্যা এবং জনপ্রিয় অভিনেতা-পরিচালক অনির্বাণ ভট্টাচার্যের স্ত্রী হিসেবে বহুদিন ধরেই পরিচিত মধুরিমা গোস্বামী (Madhurima Goswami)। তবে এবার তিনি নতুন এক অধ্যায় শুরু করলেন অভিনয়জীবনে। প্রথমবারের মতো বাংলা মেগা সিরিয়ালে অভিনয় করতে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। স্টার জলসার নতুন ধারাবাহিক ‘অন্নপূর্ণার লক্ষ্মীরা’র মাধ্যমে ছোটপর্দায় আত্মপ্রকাশ করেছেন মধুরিমা। ফলে দর্শকদের একাংশের মধ্যেও তাঁকে নিয়ে তৈরি হয়েছে আলাদা কৌতূহল। থিয়েটারের মঞ্চে দীর্ঘদিন কাজ করার পর টেলিভিশনের পর্দায় তাঁর এই নতুন যাত্রা কতটা সফল হবে, তা নিয়েও চলছে আলোচনা।

সদ্য শুরু হওয়া এই ধারাবাহিকে মধুরিমাকে দেখা যাচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে। তাঁর চরিত্রের নাম ‘দুর্গাবতী মা ঠাকুরণ’। গল্পে তিনি নায়ক রাজার মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রাজার চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিনেতা সৌম্যদীপ মুখোপাধ্যায়। প্রথম সিরিয়ালেই এমন একটি দাপুটে ও প্রভাবশালী চরিত্রে মধুরিমার উপস্থিতি দর্শকদের নজর কেড়েছে। ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে তাঁর অভিনয় নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, থিয়েটারের অভিজ্ঞতা ছোটপর্দার চরিত্রটিকেও আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।

ছোটপর্দায় কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন মধুরিমা নিজেই। তিনি বলেন, “আসলে অনেকের ধারণা ছিল যে আমি হয়তো ধারাবাহিকে কাজ করতে আগ্রহী নই। আসলে আমারও যে খুব আকর্ষণীয় লেগেছিল তা নয়…তবে চ্যানেলের তরফে একজন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। আমিও প্রযোজনা সংস্থার বিষয়ে ভাল করে খোঁজখবর নিয়েছিলাম। ভাল কথা শুনে রাজি হলাম। আর অভিনেতাদের সবসময়ই নতুন কাজের প্রতি লোভ থাকে।” তাঁর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, শুরুতে খুব বেশি আগ্রহ না থাকলেও কাজের পরিবেশ ও সুযোগ বিচার করেই তিনি এই প্রস্তাবে সম্মতি দেন। নতুন অভিজ্ঞতার জন্যও তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি বাস্তব দিক নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন মধুরিমা। তাঁর মতে, থিয়েটার শিল্পীদের শিল্পীসত্তাকে সমৃদ্ধ করলেও শুধুমাত্র মঞ্চের আয়ের উপর নির্ভর করে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করা কঠিন। তাই টেলিভিশন বা মেগা সিরিয়ালের মতো মাধ্যম শিল্পীদের আর্থিক স্থিতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এই কারণেও ছোটপর্দায় কাজ করাকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখেন। বর্তমানে তাঁর অভিনীত চরিত্র নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বাড়ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে স্বস্তিকার শাশুড়ি এবং রাজার মায়ের চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি ধারাবাহিকের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠছে।

তবে সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে অনস্ক্রিন মা-ছেলের বয়সের পার্থক্য। বাস্তবে মধুরিমার বয়স প্রায় ৩৭ বছর, আর সৌম্যদীপের বয়স ২৯ বছরের কাছাকাছি। অর্থাৎ তাঁদের বয়সের ফারাক মাত্র ৮ বছর। সেই জায়গা থেকে মায়ের চরিত্রে মধুরিমার অভিনয় অনেকের নজর কেড়েছে। অন্যদিকে, এই নতুন কাজ শুরু করার আগে স্বামী অনির্বাণ ভট্টাচার্যের সঙ্গেও আলোচনা করেছিলেন তিনি। মধুরিমার কথায়, ক্যামেরার সামনে অনির্বাণের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। তাই শুটিং শুরু করার আগে ফোন করে সবকিছু জানিয়েছিলেন তাঁকে। কী করা উচিত, কী করা উচিত নয়, সেই বিষয়ে স্বামীর পরামর্শ নিয়েই ছোটপর্দার এই নতুন সফর শুরু করেছেন মধুরিমা গোস্বামী।

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page