জি বাংলার ধারাবাহিক ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’-তে (Tare Dhori Dhori Mone kori) গোরা চরিত্রে অভিনয় করে ইতিমধ্যেই দর্শকদের নজর কেড়েছেন অভিনেতা ‘বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়’ (Biswarup Bandyopadhyay)। সম্প্রতি শুটিংয়ের ফাঁকে সহঅভিনেত্রী ‘পল্লবী শর্মা’ (Pallavi Sharma) মজার ছলে বলেছিলেন, বাস্তবের বিশ্বরূপের সঙ্গে পর্দার গোরার বেশ কিছু মিল রয়েছে। সংসার থেকে দূরে থাকার মানসিকতা, নিরিবিলি স্বভাব এবং নিজের মতো করে জীবন কাটানোর প্রবণতা নিয়ে তাঁর সেই মন্তব্য যথেষ্ট আলোচনায় এসেছিল। এবার অন্য এক সাক্ষাৎকারে সহশিল্পীদের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিশ্বরূপ নিজেই এমন কিছু মন্তব্য করলেন, যা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
সাক্ষাৎকারে প্রথমেই অভিনেতার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করতে করতে ধারাবাহিকের কলাকুশলীরা অনেক সময় পরিবারের মতো হয়ে ওঠেন। সেই কারণে তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্য, ঝগড়া বা মতবিরোধের মতো ঘটনা ঘটে কি না। উত্তরে বিশ্বরূপ জানান, তাঁদের সেটে এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বরং সবাই খুব সুন্দর পরিবেশে কাজ করছেন বলেই তাঁর দাবি। তবে স্বাভাবিকভাবেই হাসি-ঠাট্টা, খুনসুটি বা মজার মুহূর্ত লেগেই থাকে। অভিনেতা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এই সুস্থ সম্পর্ক বজায় থাকবে।
এরপর প্রশ্ন ওঠে, দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেগপ্রবণ কে এবং দ্বিতীয়বার শট দিতে হলে কে বেশি নার্ভাস হয়ে পড়েন। এই প্রসঙ্গেও বিশ্বরূপের উত্তর ছিল বেশ স্পষ্ট। তিনি বলেন, তাঁদের ইউনিটে এমন কাউকে তিনি দেখেননি, যিনি কাজের ক্ষেত্রে অযথা ভেঙে পড়েন বা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। প্রত্যেকেই নিজের কাজ নিয়ে অত্যন্ত মনোযোগী এবং দায়িত্বশীল। শুটিং ফ্লোরে সবাই পেশাদার মনোভাব নিয়েই কাজ করেন বলেও জানান অভিনেতা। তাই এই ধরনের প্রশ্নের নির্দিষ্ট কোনও নাম তাঁর পক্ষে বলা সম্ভব হয়নি।
তবে অভিনয়ের দিক থেকে সেরা শিল্পীর নাম জানতে চাওয়া হলে কিছুটা দ্বিধায় পড়ে যান বিশ্বরূপ। প্রথমে তিনি বলেন, একজনের নাম নিয়ে অন্যদের ছোট করতে চান না। কারণ প্রত্যেকেই নিজের জায়গায় দক্ষ। কিন্তু তারপরই তিনি পল্লবী শর্মার নাম উল্লেখ করেন। অভিনেতার কথায়, পল্লবীর অভিনয় দক্ষতা সত্যিই আলাদা। তিনি জানান, পল্লবী সাধারণত খুব কম সময়েই প্রস্তুতি নিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এক টেকেই দৃশ্য সম্পূর্ণ করে ফেলেন। শুধু অভিনয় নয়, সংলাপ মুখস্থ করার ক্ষেত্রেও তাঁর দক্ষতা অন্যদের থেকে অনেক এগিয়ে বলেই মনে করেন বিশ্বরূপ।
আরও পড়ুনঃ ‘চায়ের চেয়ে কেটলি গরম!’ ‘আমিও একটা বৈঠক করব, আমার কথাও কেউ শুনছে না!’ বিচ্ছেদ নিয়ে আবার সাংবাদিক বৈঠক কীসের? আদালতে শুনানির পর, প্রবাহকে নিয়ে দেবলীনার বি’স্ফোরক অভিযোগের চেয়েও বেশি চর্চায় নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া! সমাজ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়!
সাক্ষাৎকারের শেষদিকে সহঅভিনেত্রী সম্পর্কে আরও খোলামেলা মন্তব্য করেন তিনি। বিশ্বরূপ বলেন, “মাঝে মাঝে পল্লবীর জন্য আমি চাপে পড়ে যাই। ভয় লাগে আমার, আমি তো ওর থেকে লক্ষ্য কোটি দূরে!” অভিনেতার এই মন্তব্যে যেমন পল্লবীর প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ও মুগ্ধতা স্পষ্ট হয়েছে, তেমনই সহশিল্পীর সাফল্যকে স্বীকার করার মানসিকতাও ধরা পড়েছে। দর্শকদের একাংশের মতে, পর্দায় তাঁদের রসায়ন যতটা স্বাভাবিক লাগে, বাস্তবেও একে অপরের প্রতি সেই পারস্পরিক সম্মানই হয়তো তার অন্যতম কারণ।
