জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

উত্তম শতবর্ষের বৈঠকে নন্দনে ঢুকতেই বাধা! দেখাতে বলা হল ইনভিটেশন কার্ড! ‘এরা আমায় চেনে না বলে…’ অভিনেতা চন্দন সেনের অভিযোগে উঠল শিল্পীর সম্মান নিয়ে প্রশ্ন!

বাংলা নাটক ও চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ চন্দন সেন। দীর্ঘদিনের অভিনয় জীবনে মঞ্চের পাশাপাশি সিনেমা ও অন্যান্য মাধ্যমে কাজ করেছেন তিনি। অভিনয়ের বাইরে নাট্যচর্চা এবং সাংস্কৃতিক পরিসরেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করতেও দেখা যায় তাঁকে। শিল্পীদের অধিকার কিংবা সমাজের নানা সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পিছপা হন না এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। ফলে তাঁর বক্তব্য ঘিরে মাঝেমধ্যেই আলোচনা তৈরি হয়। এবার মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি বৈঠককে কেন্দ্র করে চন্দন সেনের একটি অভিযোগ সামনে আসতেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার নন্দন চত্বরে।

বৃহস্পতিবার নন্দনে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী তথা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের প্রধান শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি জগতের একাধিক পরিচিত ব্যক্তিত্ব। মিঠুন চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, অরিন্দম শীল, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, কাঞ্চন মল্লিক, সৃজিত মুখোপাধ্যায় এবং শঙ্কর চক্রবর্তীর মতো তারকারাও বৈঠকে হাজির ছিলেন। উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষকে ঘিরে কীভাবে বছরভর নানা আয়োজন করা হবে, তা নিয়েই মূলত এই বৈঠক। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েই চন্দন সেনকে প্রবেশপথে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি ঘিরেই এখন শুরু হয়েছে আলোচনা।

চন্দন সেনের বক্তব্য অনুযায়ী, নন্দনে বৈঠকে ঢোকার সময় তাঁকে প্রথমে আটকে দেওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে চিনতে পারেননি বলেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে দাবি অভিনেতার। তাঁকে পরিচয়পত্র বা কার্ড দেখাতে বলা হয় এবং পরে কার্ড দেখানোর পর তাঁকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এই ঘটনার পরেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। চন্দন সেন বলেন, ‘এরা আমায় চেনে না, জানে না, তাই ঢুকতে বাধা দিয়েছে!’ তাঁর বক্তব্য, প্রত্যেক মানুষকে সবাই চিনবেন এমনটা অবশ্যই নয়। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে এক ধরনের ‘গায়ের জোর’ দেখানো হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই অভিনেতাকে একটি সরকারি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ঢোকার সময় এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হওয়ায় বিষয়টি নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ইতিমধ্যেই নানা পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। বাংলার চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে মহানায়ক শুধুমাত্র একজন অভিনেতা নন, তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাঙালির আবেগ, স্মৃতি এবং সংস্কৃতির একটি বড় অংশ। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও উত্তম কুমারকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁকে ‘নায়কের নায়ক’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, সেই কারণেই তিনি মহানায়ক হিসেবে পরিচিত এবং তাঁর জন্মশতবর্ষ উদযাপনের সুযোগ পাওয়া আশীর্বাদের মতো। এত বড় একটি আয়োজনের প্রস্তুতি বৈঠকেই চন্দন সেনের মতো বর্ষীয়ান শিল্পীকে প্রবেশের সময় বাধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ঘটনাটিকে ঘিরে মূল প্রশ্ন উঠছে শিল্পী হিসেবে একজন বর্ষীয়ান অভিনেতার সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে। পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন থাকতেই পারে, কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় একজন দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে কীভাবে দেখা হচ্ছে, তা নিয়েই চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের মতো একটি ঐতিহাসিক আয়োজনের প্রস্তুতি বৈঠকে এমন অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদিও চন্দন সেনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে নেই। তবে তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সাংস্কৃতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, শিল্পীদের সম্মান জানানোর এমন আয়োজনের ক্ষেত্রেই যদি একজন বর্ষীয়ান শিল্পীকে প্রবেশের সময় বাধার মুখে পড়তে হয়, তাহলে বিষয়টি কতটা গ্রহণযোগ্য? উত্তম কুমারের শতবর্ষের প্রস্তুতিতে এই ঘটনাই কি এবার নতুন বিতর্কের জন্ম দিল?

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page