টলিউডের অন্দরে রণজয় বিষ্ণু এবং শ্যামপ্তি মুদলির দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই নানা জল্পনা চলছে। তাঁদের সম্পর্ক কি ভাঙনের দিকে এগোচ্ছে, তা নিয়ে সমাজমাধ্যমেও আলোচনা কম হয়নি। তবে এই বিষয়ে রণজয় বা শ্যামপ্তি কেউই প্রকাশ্যে বিস্তারিত কথা বলতে চাননি। এরই মধ্যে কয়েকদিন আগে হঠাৎ ফেসবুক লাইভে আসেন অভিনেতা। সেখানে তিনি হাতজোড় করে অনুরোধ করেন, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যেন আর আলোচনা না করা হয়। তাঁর কথায়, দাম্পত্য জীবনে যা ঘটার তা ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু চারপাশের মানুষ যেভাবে তাঁদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, তাতে তিনি মোটেই স্বস্তি বোধ করছেন না। সেই লাইভের কারণ নিয়েই এবার ফের প্রশ্নের মুখে পড়লেন অভিনেতা।
সম্প্রতি রণজয়কে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি কেন সেই সময় ফেসবুক লাইভে এসেছিলেন। উত্তরে অভিনেতা স্পষ্ট করে জানান, তিনি কোনও ব্যাখ্যা দিতে লাইভে আসেননি। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল শুধু মানুষকে অনুরোধ করা, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে যেন ব্যক্তিগতই থাকতে দেওয়া হয়। রণজয়ের কথায়, “আমি মোটেই ক্ল্যারিফিকেশন দিতে লাইভে আসিনি। আমি শুধুমাত্র একটা কথাই বলতে এসেছিলাম যে ব্যক্তিগত জীবনকে দয়া করে ব্যক্তিগত রাখতে দিন। আমি আমার জীবনে যদি ভালো কিছু হয় তখন সেটা সবাইকে দেখাতে পছন্দ করব কিন্তু খারাপ জিনিস সকলকে দেখিয়ে সকলের মধ্যে কেন খারাপটা ছড়িয়ে দেব?” অর্থাৎ নিজের জীবনে কোনও ভালো ঘটনা ঘটলে তা অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে তাঁর আপত্তি নেই। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের খারাপ সময়কে প্রকাশ্যে এনে তা নিয়ে আলোচনা বাড়াতে তিনি রাজি নন।
এখানেই থামেননি রণজয়। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মানুষের অতিরিক্ত আগ্রহের প্রসঙ্গ টেনে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেন তিনি। অভিনেতার কথায়, “সবার আগে নিজেকে পাল্টাতে হবে। নতুন সরকারকে নিয়ে বা রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে মানুষের প্রচুর সমস্যা কিন্তু মানুষ নিজেকেই পাল্টাতে জানে না। আগে আপনি নিজেকে পাল্টান তারপর চিন্তা করবেন অন্যদের পাল্টাতে।” এরপর তিনি বলেন, “আমি এই পুরো সিস্টেমটাই পছন্দ করি না, কেন মানুষের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলব আমরা?” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, শুধু নিজের সম্পর্ক নয়, অন্য মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও প্রকাশ্যে আলোচনা করার প্রবণতাকে তিনি সমর্থন করেন না। তাঁর মতে, মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের ওঠাপড়া নিয়ে বাইরে থেকে মন্তব্য করার আগে নিজের আচরণ নিয়েও ভাবা দরকার।
এরপর এক অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সমাজমাধ্যমে চলা আলোচনা প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন রণজয়। যদিও তিনি অভিনেত্রীর নাম প্রকাশ্যে নেননি, তবে জানান, সম্প্রতি এক অভিনেত্রীর স্বামী মারা যাওয়ার পরও তাঁকে ঘিরে যেভাবে নানা কথা বলা হচ্ছে, তা তাঁর কাছে অত্যন্ত অস্বস্তিকর। রণজয়ের কথায়, “আমি নাম নেব না কিন্তু একজন অভিনেত্রী রয়েছেন যার কিছুদিন আগেই স্বামী মারা গিয়েছেন তাকে নিয়েও যেভাবে মানুষ কথা বলছে তাদের আমি তো কোন ছাড়!” তিনি আরও বলেন, “মানুষের মানসিকতা এখন ভীষণ নিচে নেমে গিয়েছে, তাই এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় নেই।” তাঁর মতে, কারও ব্যক্তিগত জীবনে কী ঘটছে, তা নিয়ে বাইরে থেকে মন্তব্য করার কোনও প্রয়োজন নেই। বরং সকলেরই উচিত অন্যের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করা।
আরও পড়ুনঃ ‘ফাহিম থাকলে আরও ভালো করত’, কটাক্ষের মুখে ধ্রুবজ্যোতি, ‘সম্রাট চরিত্রটা শুধু আমার’ বলে দিলেন জবাব
সব মিলিয়ে, নিজের ফেসবুক লাইভ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে রণজয় আবারও বুঝিয়ে দিলেন, দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে চলা জল্পনার কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা তিনি প্রকাশ্যে দিতে চান না। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল একটাই, ব্যক্তিগত বিষয়কে ব্যক্তিগত রাখার অধিকার প্রত্যেক মানুষেরই থাকা উচিত। তিনি নিজের জীবনে ভালো কিছু ঘটলে তা অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পছন্দ করেন, কিন্তু খারাপ সময়কে প্রকাশ্যে এনে তা নিয়ে আরও আলোচনা তৈরি করতে চান না। একইসঙ্গে অন্যদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও অযথা চর্চা বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছেন অভিনেতা। ফলে রণজয় ও শ্যামপ্তির সম্পর্ক নিয়ে চলা জল্পনা আপাতত থাকছেই, তবে অভিনেতার বক্তব্যে অন্তত এটুকু স্পষ্ট যে এই বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কথা বলার ইচ্ছা তাঁর নেই।
