জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

‘এইসবের কি সত্যিই দরকার ছিল?’ ‘একমাত্র সিরিয়াল ছিল যেখানে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে তৃতীয় ব্যক্তি নেই, সেটাও সহ্য হলো না!’ সুদেষ্ণাকে ঘিরে একের পর এক ঘনি’ষ্ঠ দৃশ্য, ‘জোয়ার ভাঁটা’র গল্পের ধরন বদলে যাওয়ায় ক্ষু’ব্ধ দর্শক! ‘পরিচ্ছন্ন’ ধারাবাহিককে কেন এমন পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, উঠছে প্রশ্ন?

জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জোয়ার ভাঁটা’ (Jowar Bhanta) নিয়ে এবার নতুন করে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন দর্শকদের একাংশ। শুরু থেকেই এই ধারাবাহিকের গল্পে দুই বোনের সম্পর্ক, পরিবার এবং তাঁদের জীবনের নানা ওঠাপড়া বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সেই সঙ্গে ধারাবাহিকটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল এর তুলনামূলকভাবে পরিচ্ছন্ন গল্পের ধরন। কিন্তু সাম্প্রতিক পর্বগুলিতে সুদেষ্ণার আগমনের পর গল্পের পরিবেশ অনেকটাই বদলে গিয়েছে বলে মনে করছেন কিছু দর্শক। ঋষির সঙ্গে সুদেষ্ণার একাধিক ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়েই তাঁদের মূল আপত্তি। তাঁদের বক্তব্য, এমন দৃশ্য বারবার দেখানোয় ধারাবাহিকটির আগের সেই স্বাভাবিক আবহ আর থাকছে না। ফলে নতুন মোড়ের বদলে এই পরিবর্তনই এখন দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে।

সাম্প্রতিক গল্পে দেখা যাচ্ছে, ঋষির জীবনে সুদেষ্ণার প্রবেশের পর থেকেই তাঁদের ঘিরে তৈরি হচ্ছে নানা পরিস্থিতি। বিশেষ করে সুদেষ্ণার আচরণ এবং ঋষির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতাকে কেন্দ্র করে দর্শকদের একাংশ অস্বস্তি প্রকাশ করছেন। তাঁদের মতে, ঋষি একজন বিবাহিত মানুষ এবং এতদিন তাঁকে উজির প্রতি ভালোবাসা, বিশ্বাস ও দায়িত্ববোধে স্থির একজন স্বামী হিসেবেই দেখানো হয়েছে। সেই চরিত্রের সঙ্গে এমন দৃশ্য কতটা মানানসই, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। একজন দর্শকের বক্তব্য, একটি বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে অন্য এক নারীর বারবার এই ধরনের ঘনিষ্ঠতা দেখানোর প্রয়োজন কী। গল্পে নতুন সমস্যা তৈরি করা যেত অন্যভাবেও, এমন দৃশ্যের উপর নির্ভর না করেও তা সম্ভব ছিল বলেই মনে করছেন তাঁরা।

দর্শকদের আরও একাংশের দাবি, ‘জোয়ার ভাঁটা’ এতদিন তাঁদের কাছে অন্য অনেক ধারাবাহিকের থেকে আলাদা ছিল। গল্পের সম্পর্কগুলিকে ঘিরে আবেগ থাকলেও অযথা চমক বা অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের উপর নির্ভর করতে হয়নি। সেই জায়গা থেকেই বর্তমান পরিবর্তন তাঁদের হতাশ করছে। তাঁদের মতে, সুদেষ্ণার চরিত্র আসার পর থেকে এমন কিছু দৃশ্য দেখানো হচ্ছে, যা ধারাবাহিকটির আগের পরিবেশের সঙ্গে একেবারেই মেলে না। ফলে গল্পের প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে বলেও কেউ কেউ জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, একটি ধারাবাহিকের জনপ্রিয় চরিত্র এবং সম্পর্কের ভিত তৈরি করতে অনেকটা সময় লাগে। তাই শুধুমাত্র নাটকীয়তা বাড়ানোর জন্য সেই সম্পর্কের স্বাভাবিকতাকে নষ্ট করা হলে দর্শকদের সঙ্গে তৈরি হওয়া আবেগের জায়গাটিও দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

বিশেষ করে উজি ও ঋষির সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই দর্শকদের একটি বড় অংশের আবেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের কাছে এই সম্পর্কের মূল শক্তি ছিল ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং পারস্পরিক সম্মান। তাই ঋষির সঙ্গে সুদেষ্ণার ঘনিষ্ঠতা যত বাড়ছে, ততই সেই সম্পর্কের স্বাভাবিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দর্শকদের একাংশ মনে করছেন, নতুন কোনও চরিত্রকে গল্পে আনার পরেও তার উপস্থিতি দেখানোর জন্য বারবার একই ধরনের দৃশ্য ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। বরং সুদেষ্ণার চরিত্রের পিছনে অন্য কোনও রহস্য বা গল্প থাকলে সেটিকে সামনে আনা যেতে পারে। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে বিষয়টি দেখানো হচ্ছে, তাতে ধারাবাহিকের আগের সৌন্দর্যটাই নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। এমনকী, কেউ কেউ স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরনের দৃশ্য চলতে থাকলে ‘জোয়ার ভাঁটা’ দেখার আগ্রহও তাঁদের কমে যাচ্ছে।

তবে দর্শকদের এই প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই এখন বড় প্রশ্ন, সুদেষ্ণাকে ঘিরে এই নতুন সমীকরণ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যাবে। ঋষি ও উজির সম্পর্ক কি সত্যিই নতুন কোনও সমস্যার মুখে পড়বে, নাকি বর্তমান পরিস্থিতির পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দর্শকদের একাংশ অবশ্য চাইছেন, গল্পে নতুন মোড় আসুক, কিন্তু তার জন্য ধারাবাহিকের মূল সম্পর্কগুলিকে অস্বস্তিকর করে তোলা না হোক। তাঁদের মতে, ‘জোয়ার ভাঁটা’র যে আলাদা পরিচয় তৈরি হয়েছিল, সেটি বজায় রাখাই বেশি জরুরি। তাই আগামী পর্বগুলিতে নির্মাতারা এই গল্পকে কোন পথে নিয়ে যান, সেদিকেই নজর থাকবে দর্শকদের। নতুন চরিত্রের আগমন যদি গল্পকে আরও সমৃদ্ধ করে, তবে তা গ্রহণ করতে আপত্তি নেই তাঁদের, কিন্তু একই ধরনের ঘনিষ্ঠ দৃশ্য দিয়ে গল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়া নিয়ে আপত্তি স্পষ্ট।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page