হাউসফুল হয়েও এক সপ্তাহেই কেন হল থেকে উধাও আদৃত রায়ের (Adrit Roy) ‘বেপরোয়া’? ‘মিঠাই’ ধারাবাহিকের উচ্ছেবাবু হিসেবে বাঙালির ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন অভিনেতা। সেই জনপ্রিয়তার জোরেই বড়পর্দায় তাঁকে দেখার অপেক্ষায় ছিলেন অগণিত অনুরাগী। ১৮ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় আদৃতের প্রথম ছবি ‘বেপরোয়া’, মুক্তির আগে ছবির প্রচার বা প্রিমিয়ারের মতো বড় কোনও আয়োজনও দেখা যায়নি। তবু ছবি মুক্তির পর বেশ কিছু প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের ভালো সাড়া মেলে। কোথাও কোথাও হাউসফুলের বোর্ডও ঝুলতে দেখা যায়, তারপরও কলকাতার একাধিক হল থেকে ছবিটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ছোট পর্দার অত্যন্ত পরিচিত মুখ আদৃতের অনুরাগীর সংখ্যা যে কম নয়, তা তাঁর ধারাবাহিকের জনপ্রিয়তাতেই স্পষ্ট। সেই বিপুল অনুরাগী মহলই দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করেছিল বড়পর্দায় অভিনেতাকে দেখার জন্য। প্রথম ছবি ঘিরে তাই প্রত্যাশাও ছিল যথেষ্ট। দর্শকের একাংশের প্রতিক্রিয়ায় ছবিটি নিয়ে ইতিবাচক কথাও উঠে এসেছে। কিন্তু এমন পরিস্থিতির মধ্যেই এক সপ্তাহের মধ্যে একাধিক প্রেক্ষাগৃহ থেকে ‘বেপরোয়া’ সরে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে ছবিটির জন্য কোনও বড়সড় প্রচার বা প্রিমিয়ার না হওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি নজরে এসেছে। অনুরাগীদের একাংশের প্রশ্ন, এত পরিচিত অভিনেতার ছবি নিয়ে প্রযোজনা সংস্থার তরফে কেন সেই উৎসাহ দেখা গেল না?
ছবিটির সঙ্গে যুক্তদের কাছে বিষয়টি যে হতাশার, তা আদৃতের সমাজ মাধ্যমের বক্তব্যেও স্পষ্ট হয়েছে। অভিনেতা জানিয়েছেন, কোনওরকম প্রচার ছাড়াই ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল। তারপরও দর্শকের কাছ থেকে পাওয়া সাড়ায় ছবির সঙ্গে যুক্ত সকলে আশাবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু সেই আশার মধ্যেই দ্রুত একাধিক হল থেকে ছবি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা তাঁদের কাছে অপ্রত্যাশিত। আদৃতের বক্তব্যে ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখদের নিয়েও অভিমান প্রকাশ পেয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, নতুনদের পাশে থাকার কথা বলা হলেও ‘বেপরোয়া’র জন্য তেমন সমর্থন তাঁরা পাননি। এমনকী কোনও পরিচিত তারকাকেও ছবিটির পক্ষে একবার প্রকাশ্যে কথা বলতে দেখা যায়নি বলে আক্ষেপ করেছেন তিনি।
আদৃতের বক্তব্য অনুযায়ী, ছবির জন্য কোনও বিশেষ প্রদর্শনী বা প্রিমিয়ারও আয়োজন করা হয়নি। তাঁর দাবি, এমন কোনও সুযোগ তৈরি হয়নি যেখানে পরিচিত মানুষজন এসে ছবিটি দেখতে পারতেন এবং নিজেদের মত জানাতে পারতেন। ছবিটি তাঁদের পছন্দ না হলেও অন্তত সেটি নিয়ে কথা বলার সুযোগ থাকত বলেই মনে করেন অভিনেতা। এর পাশাপাশি কলকাতার অধিকাংশ হল থেকে ছবি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও তিনি সামনে এনেছেন। আদৃতের কথায়, “নতুনদের স্বাগত জানানোর কথা যাঁরা বলেন, তাঁদের কাছ থেকেও আমরা কোনও সমর্থন পাইনি। আমাদের ছবির জন্য কারও একবার প্রকাশ্যে কথা বলার সময় হয়নি, কোনও প্রিমিয়ার বা বিশেষ প্রদর্শনীর ব্যবস্থাও হয়নি। দর্শক ছবি পছন্দ করার পরও বাংলা ছবির পাশে দাঁড়ানোর মতো সময় পান না, এটাই সবচেয়ে হতাশার।”
তবে এত কিছুর মধ্যেও যাঁরা ‘বেপরোয়া’ দেখেছেন এবং ভালোবেসেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আদৃত। তাঁর বক্তব্য, দর্শকরাই ছবিটির পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং ভালো প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। অভিনেতা দাবি করেছেন, দ্বিতীয় সপ্তাহেও ছবির কিছু প্রদর্শনী কোনও ধরনের কারসাজি ছাড়াই হাউসফুল যাচ্ছে। তাঁর মতে, ভালো ছবি তৈরি হলে শেষ পর্যন্ত দর্শকের ভালোবাসা এবং সমর্থনই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। অনুরাগীদের উদ্দেশে তিনি জানিয়েছেন, তাঁদের দেওয়া ভালোবাসার কোনও বিকল্প নেই। বাংলার মানুষ এবং বিশেষ করে তাঁর অনুরাগীদের প্রতি আলাদা করে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের সারকথা, “যাঁরা ‘বেপরোয়া’ দেখছেন, ভালোবেসে দেখছেন এবং দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছেন, প্রত্যেককে মন থেকে ধন্যবাদ। আপনাদের ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি, তাই ‘বেপরোয়া’ উপভোগ করতে থাকুন।”
আরও পড়ুনঃ ‘আমি হিন্দু, ব্রাহ্মণ, কিন্তু তার আগে মানুষ!’ অন্তঃসত্ত্বা রোশনিকে ‘জি’হাদি’ কটা’ক্ষ, এ কী জবাব অভিনেত্রীর?
এদিকে আদৃতের অনুরাগীদের একাংশও ছবিটির দ্রুত হলছাড়া হওয়ার বিষয়টি সহজে মেনে নিতে পারছেন না। তাঁদের প্রশ্ন, এত বড় অনুরাগী মহল থাকা সত্ত্বেও ছবিটির প্রচারে কেন এতটা অনীহা দেখা গেল? বিশেষ করে প্রযোজনা সংস্থাটি বাংলা ছবির ক্ষেত্রে পরিচিত এবং বড় সংস্থাগুলির মধ্যে অন্যতম হওয়া সত্ত্বেও এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হল, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। অনুরাগীদের একাংশের বক্তব্য, ছবিটি নিয়ে কোনও ভয়, চাপ বা অন্য কোনও কারণ কাজ করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। যদিও এই ধরনের আশঙ্কার কোনও নিশ্চিত প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। তবু তাঁদের প্রশ্ন, আদৃতকে নিয়ে দর্শকের এমন আগ্রহের পরও প্রযোজকের তরফে ছবিটিকে যথেষ্টভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা দেখা গেল না কেন? ‘বেপরোয়া’র ভবিষ্যৎ প্রদর্শন এবং ছবিকে ঘিরে প্রযোজনা সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপ এখন তাই অনুরাগীদের নজরে।
