বাড়িটা একই আছে, ঘরের আসবাবও বদলায়নি। সাজানো রয়েছে বই, ছবি, পুরস্কার আর কত না স্মৃতি। শুধু যে মানুষটাকে ঘিরে এত আয়োজন, সেই মানুষটাই আর নেই। দরজার বাইরে গাড়ির আওয়াজ হলেই একসময় বাড়ির পোষ্য ছুটে যেত প্রিয় মানুষটির কাছে। আজও যেন সেই অপেক্ষা শেষ হয় না। আর ঘরের ভিতরে বসে স্মৃতির পাতায় ছেলেকে খুঁজে বেড়ান এক মা। জন্মদিনের মতো আনন্দের দিনও তাঁর কাছে এখন শুধুই হারিয়ে যাওয়া মুহূর্তের হিসাব। প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম জন্মদিনে তাঁর মা শ্যামলী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় উঠে এল এমনই এক বুকভাঙা শূন্যতার ছবি।
১৬ অক্টোবর রাহুলের জন্মদিন। এ বছর দিনটি অন্য সব বছরের থেকে আলাদা। কারণ, ছেলেকে ছাড়া এই প্রথম জন্মদিন কাটাতে হচ্ছে শ্যামলীকে। গত ২৯ মার্চ সমুদ্রের ধারে শুটিং করতে গিয়ে প্রাণ হারান অভিনেতা। তারপর থেকে বিজয়গড়ের বাড়িতে একাই ছেলের স্মৃতি আগলে রয়েছেন তাঁর মা। রাহুলের ঘরে এখনও সাজানো রয়েছে বই, কলম, পুরস্কার এবং তাঁর নানা জিনিসপত্র। সেই ঘরেই দিনের একটা বড় সময় কাটত অভিনেতার। সেখানে বসেই কাজ করতেন নিজের পডকাস্ট ‘সহজ কথা’ নিয়ে। আজ সেই ঘরই মায়ের কাছে ছেলের স্মৃতির সবচেয়ে বড় আশ্রয়।
কথা বলতে গিয়ে বারবার ফিরে এসেছে জন্মদিনের পুরনো মুহূর্ত। শ্যামলীর কথায়, গত বছরও জন্মদিনে বন্ধুদের বাড়িতে ডেকেছিলেন রাহুল। সবাই মিলে আনন্দ করেছিলেন। সেদিন রাতে মা-ছেলে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়াও করেছিলেন। মাকে ক্লান্ত কি না, সেটাও জানতে চেয়েছিলেন অভিনেতা। ছেলের ছোট ছোট অভ্যাস মনে করতে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তিনি। জন্মদিনে রাহুলের পছন্দের খাবার তৈরির কথাও জানিয়েছেন শ্যামলী। পায়েসের সঙ্গে চাই-ই চাই বিশেষ ধরনের ‘সাপতা লুচি’। ছোটবেলা থেকেই এই লুচি পছন্দ করতেন রাহুল। সত্যজিৎ রায় এই ধরনের লুচি খেতেন বলেই নাকি তাঁরও এমন আবদার ছিল। শুটিং বা অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরে ঘরের খাবার খেতেই বেশি ভালবাসতেন অভিনেতা।
আরও পড়ুনঃ দাদাকে নিয়ে জবর খবর! ‘বিগ বস’-এর সঞ্চালনা ছাড়ছেন সৌরভ গাঙ্গুলী? আসছে দাদার নতুন শো! কোন চ্যানেলে?
ছেলের অনুপস্থিতি শুধু মায়ের জীবনেই নয়, বাড়ির প্রতিটি কোণেও যেন স্পষ্ট। রাহুলের পোষ্য কুট্টুস এখনও গাড়ির দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ শুনলে ছুটে যায়। সহজ বাড়িতে এসে বাবার ঘরে ঢুকলে কুট্টুসও সেখানে গিয়ে বসে থাকে, যেন প্রিয় মানুষটি ফিরে আসবেন। নাতির সঙ্গে সময় কাটিয়ে কিছুটা শান্তি পেলেও শ্যামলীর মনে পড়ে যায় ছেলের কথা। রাহুলের মা জানিয়েছেন, অভিনেতা বই পড়তে, কুইজে অংশ নিতে এবং লিখতে ভীষণ ভালবাসতেন। তাঁর কাছে বই ছিল সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। আজ জন্মদিনে সেই বই, ছবি আর স্মৃতিই সঙ্গী। ছেলের মৃত্যুর পরে প্রথম জন্মদিনে শ্যামলীর কণ্ঠে তাই আনন্দের বদলে শুধুই শূন্যতা, আর এক মায়ের না-পাওয়ার গভীর যন্ত্রণা।
