জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

তাঁর কলেজ থেকে পাওয়া গেছে ক*ন্ডোম ও বান্ডিল বান্ডিল টাকা! সুরেন্দ্রনাথ কলেজের প্রাক্তন ছাত্র তথা জিএস, জিতু কমল দুর্নী’তির সঙ্গে আপোসে বিশ্বাসী নন! এবার অভিনেতা নিলেন কোন বড় পদক্ষেপ?

অভিনয়ের জগতে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করার পর এবার সমাজসেবার ক্ষেত্রেও নতুন দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন অভিনেতা জিতু কমল। টেলিভিশন থেকে বড়পর্দা, দুই ক্ষেত্রেই সাফল্যের পর এবার তিনি শুরু করলেন একটি নতুন সামাজিক উদ্যোগ। সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু হয়েছে তাঁর নতুন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘জিতু কমল অ্যান্ড দ্য ইউনিভার্স সোশাল ট্রাস্ট’-এর। এই সংস্থার মূল লক্ষ্য সমাজের অসহায়, অবহেলিত ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষদের পাশে দাঁড়ানো। শুধু একদিনের উদ্যোগ নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েই এই কাজ শুরু করেছেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা বহুদিনের, এবার সেটাই একটি সংগঠিত রূপ পেল।

এই নতুন উদ্যোগের সূচনায় জিতু ফিরে গিয়েছিলেন তাঁর কলেজ জীবনের স্মৃতিবিজড়িত এলাকায়। তিনি জানান, প্রায় ১৬ থেকে ১৭ বছর পর আবার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ হয়েছে। সেখানকার চায়ের দোকান, পুরনো পরিচিত মানুষ এবং ছাত্রজীবনের নানা স্মৃতি আবারও ফিরে আসে। জিতু বলেন, “১৬-১৭ বছর পর এলাম সুরেন্দ্রনাথ কলেজের কাছে। এখানে অর্জুনদার দোকান থেকে চা খেতাম। এখন তাঁর ছেলেরাই দোকান চালায়। ওরা আজও আমাকে ‘তুই’ বলেই ডাকে। এই সম্পর্কটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।” তাঁর বাবা শিয়ালদহ এলাকায় কাজ করতেন, আর সেই সূত্রেই কলেজজীবনের একটা বড় সময় কেটেছে এই এলাকায়।

অভিনেতা জানান, সমাজসেবার প্রতি তাঁর আগ্রহ নতুন নয়। কলেজে পড়ার সময় তিনি সুরেন্দ্রনাথ কলেজের জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন। সেই সময় নানা দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই মানুষের পাশে থাকার অভ্যাস তৈরি হয়। তাঁর বিশ্বাস, জীবনে সততা এবং মূল্যবোধ ধরে রাখাটাই সবচেয়ে জরুরি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের যতটুকু অর্থ নিজের এবং পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে দরকার, ততটুকুই যথেষ্ট। এর বেশি পাওয়ার লোভ থেকেই অনেক সময় দুর্নীতির জন্ম হয়। তাই কোনও অনৈতিক কাজের সঙ্গে আপোস না করে সৎভাবে এগিয়ে চলাই তাঁর জীবনের মূল নীতি বলে জানান অভিনেতা।

নতুন এই ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রকৃত অসহায় মানুষের খোঁজ করে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো হবে। শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, প্রয়োজনে চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা অন্যান্য সামাজিক সহায়তার ব্যবস্থাও করার পরিকল্পনা রয়েছে। জিতুর কথায়, এতদিন বহু মানুষ তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন, চিঠি লিখেছেন কিংবা যোগাযোগ করেছেন। এবার সেই সব উদ্যোগকে এক জায়গায় নিয়ে আসতেই এই ট্রাস্ট তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানান, অভিনয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও এই সংস্থার কাজে নিয়মিত সময় দেবেন। তাঁর সঙ্গে আরও অনেক স্বেচ্ছাসেবী যুক্ত রয়েছেন এবং সংস্থার সমস্ত কাজ নিয়ম মেনে পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট সময় অন্তর অডিটও করা হবে।

শনিবার, ১১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ‘জিতু কমল অ্যান্ড দ্য ইউনিভার্স সোশাল ট্রাস্ট’-এর পথচলা। অভিনেতার এই উদ্যোগে ইতিমধ্যেই টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখও পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা পালন করার এই উদ্যোগকে অনেকেই ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। জিতুর বিশ্বাস, একটি বড় পরিবারের মতো সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলাই এই ট্রাস্টের প্রধান লক্ষ্য। আগামী দিনে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছাই তাঁর এই নতুন যাত্রার মূল প্রেরণা।

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page