জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

‘চুরি করে আর কত দিন?’ ‘অন্যের কৃতিত্ব নিজের নামে চালাচ্ছেন!’ শ্বেতার বিয়ের মেকআপ ঘিরে বিতর্ক, এবার কড়া জবাব অহনার স্বামী দীপঙ্কর রায়ের!

টেলিভিশনের পরিচিত মুখ অহনা দত্তের ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি তাঁর স্বামী দীপঙ্কর রায়কেও নিয়ে মাঝেমধ্যেই চর্চা হয়। পেশায় মেকআপ আর্টিস্ট দীপঙ্কর কাজের সূত্রেই অহনার সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন। পরে সেই পরিচয় প্রেমে গড়ায় এবং তাঁদের সম্পর্ক নিয়েও একসময় কম আলোচনা হয়নি। এবার অবশ্য ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, নিজের পেশাগত কাজকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের কারণে খবরের শিরোনামে দীপঙ্কর। টেলিভিশন অভিনেত্রী শ্বেতা ভট্টাচার্যের বিয়ের সাজের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সেই সাজের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর দীপঙ্করের কাজের প্রশংসাও করেছিলেন অনেকে। শ্বেতাকে অত্যন্ত সুন্দর লাগছে বলেও সমাজমাধ্যমে একাধিক মন্তব্য দেখা যায়।

কিন্তু নতুন করে সেই কাজের একটি ভিডিও পোস্ট করতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। দীপঙ্করের পোস্টের নিচে একাধিক মানুষ দাবি করতে শুরু করেন, শ্বেতার মেকআপের পুরো কৃতিত্ব তিনি নিজের নামে নিচ্ছেন। কেউ কেউ সরাসরি তাঁকে অন্যের কাজ নিজের নামে চালানোর অভিযোগে কটাক্ষ করেন। এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দীপঙ্কর। যাঁকে ঘিরে এই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই মেকআপ আর্টিস্ট প্রিয়াঙ্কাও পরে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিওতে তিনি জানান, শ্বেতার মেকআপ তিনি করেছিলেন এমন দাবি কখনও করেননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শ্বেতার ক্ষেত্রে তিনি শুধু হেয়ার স্টাইল এবং শাড়ি পরানোর দায়িত্বে ছিলেন।

এরপরই প্রিয়াঙ্কার সেই ভিডিওর নিচে দীর্ঘ মন্তব্য করেন দীপঙ্কর। তিনি স্পষ্ট করে জানান, প্রিয়াঙ্কাকে ছোট করার কোনও উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না এবং তিনি এই ধরনের বিষয় পছন্দও করেন না। তবে তাঁর পোস্টে বারবার মানুষ মন্তব্য করছিলেন যে কাজটি তাঁর নয়, বরং প্রিয়াঙ্কার করা মেকআপ। দীপঙ্করের দাবি, এটি শুধু ওই একটি পোস্টের ঘটনা নয়, অনেকদিন ধরেই তিনি এমন কথা শুনে আসছিলেন। তবে এতদিন তিনি বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাননি। কিন্তু নিজের পোস্টে বারবার একই ধরনের মন্তব্য আসায় এবার তিনি এর বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। নিজের কাজের পরিচয় স্পষ্ট করতেই তাঁকে এই বক্তব্য রাখতে হয়েছে বলে জানান দীপঙ্কর।

দীপঙ্কর আরও ব্যাখ্যা করেন, তিনি কাজকে আলাদা আলাদা গ্রুপে ভাগ করে দেখেন না। তাঁর কথায়, তিনি যে কাজ করেন সেখানে সম্পূর্ণ সেটআপটাই তাঁর থাকে। শ্বেতা তাঁর খুব ভালো বন্ধু হওয়ায় শ্বেতার কথাতেই তিনি মেকআপের অংশটি করেছিলেন। এর বাইরে অন্য কোনও কাজে তিনি যুক্ত ছিলেন না বলেও স্পষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ওই কাজে কেউ কারও অধীনে ছিলেন না এবং প্রত্যেকেই শ্বেতার কথা অনুযায়ী স্বাধীনভাবে নিজের কাজ করেছেন। শ্বেতা একজন পরিচিত অভিনেত্রী হওয়ায় তাঁদের কিছু পোস্ট করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হয়েছিল বলে জানান তিনি। তাই নিজের কাজ নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে চুপ না থেকে এবার প্রকাশ্যেই নিজের অবস্থান জানালেন দীপঙ্কর।

প্রিয়াঙ্কাকে উদ্দেশ্য করে দীপঙ্কর আরও বলেন, তিনি মেকআপ আর্টিস্ট হওয়ায় তাঁর প্রোফাইল থেকে কারও নাম উল্লেখ না করে কোনও মেকআপের ভিডিও পোস্ট হলে অনেকেই সেটিকে তাঁর নিজের কাজ বলে ধরে নিতে পারেন। এই কারণেই নিজের অবস্থান বোঝানোর প্রয়োজন হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে একইসঙ্গে প্রিয়াঙ্কার উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁর পোস্টে যদি তিনি কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে যেন তাঁকে ক্ষমা করেন। দীপঙ্করের কথায়, নিজের কাজ যে তাঁরই, সেটা প্রমাণ করার জন্য তাঁর কাছে আর কোনও রাস্তা ছিল না। তিনি প্রিয়াঙ্কাকে ভালো থাকার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করার শুভেচ্ছাও জানান। অর্থাৎ বিতর্কের মাঝেও ব্যক্তিগত আক্রমণের বদলে নিজের কাজের কৃতিত্ব নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করতেই চেয়েছেন বলে তাঁর বক্তব্য। এই মন্তব্যের পর শ্বেতার বিয়ের মেকআপ ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।

অহনা দত্তের সঙ্গে সম্পর্কের সূত্রে দীপঙ্কর রায় আগেও সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় এসেছেন। ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ ধারাবাহিকে অহনার সঙ্গে কাজ করতে গিয়েই তাঁদের পরিচয় হয় এবং পরে সেই সম্পর্ক প্রেমে গড়ায়। অহনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সেই সময় নানা আলোচনা হয়েছিল। তবে পেশাগতভাবে দীপঙ্করের পরিচয় একজন মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবেই। এবার শ্বেতা ভট্টাচার্যের বিয়ের সাজ নিয়ে তাঁর কাজ প্রথমে প্রশংসা পেলেও পরে কৃতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই অভিযোগের জবাবেই দীর্ঘ মন্তব্য করে নিজের বক্তব্য সামনে আনলেন তিনি। ফলে শ্বেতার বিয়ের সাজের সৌন্দর্যের পাশাপাশি এখন সেই মেকআপের কৃতিত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কও টেলিপাড়ায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page