একসময়ের পর্দার জনপ্রিয় মুখ বরুণ চক্রবর্তী, ইন্ডাস্ট্রির পলিটিক্সে হেরে গিয়েছিলেন! দু’বছর দূরে থেকেও ভুলতে পারেননি অভিনয়! আবার ফিরে আসতেই ইন্ডাস্ট্রির অন্ধকার রাজনীতি নিয়ে বি’স্ফো’রক মন্তব্য অভিনেতার!

অভিনয় জগতে যেমন আলো রয়েছে, তেমনই ছায়াও কম নয়। একসময় টেলিভিশন ও সিনেমার পর্দা কাঁপানো অভিনেতা ‘বরুণ চক্রবর্তী’ (Barun Chakraborty) যেন হঠাৎ করেই উধাও হয়ে গিয়েছিলেন ইন্ডাস্ট্রি থেকে। দীর্ঘদিন ধরে তাকে দেখা যায়নি কোনও বাংলা ধারাবাহিক বা ছবিতে। অথচ এই অভিনেতাই কাজ করেছেন বাংলা, হিন্দি, ওড়িয়া এমনকি হলিউডের ছবিতেও। দর্শকের মনেও প্রশ্ন উঠছিল—কোথায় গেলেন বরুণ?

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই উত্তর নিজেই দিলেন বরুণ চক্রবর্তী। জানালেন, অভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন তিনি একটি ব্যাংকে চাকরি করতেন। আর এই ‘ডুয়েল লাইফ’ অনেকেরই সহ্য হতো না। অভিনেতার কথায়, “আমি গাছেরও খাবো, আবার তলারও কুড়াবো—এই জিনিসটা কেউ মেনে নিতে পারেনি।” ফলে বহু ছবিতে তাঁকে ইচ্ছে করেই বাদ দেওয়া হয়েছিল। গোষ্ঠীবদ্ধভাবে তার কাজ কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন বরুণ।

এই অবহেলা আর অব্যক্ত চাপের ফলেই ইন্ডাস্ট্রি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। প্রায় দু’বছর তিনি স্বেচ্ছায় দূরে ছিলেন অভিনয় থেকে। তবে ক্যামেরার টান কি আর সহজে যায়? বরুণ নিজেই বললেন, “অভিনয় ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ। অনেকদিন চেষ্টা করেও সেটা ভুলতে পারিনি। তাই আবার ফিরছি, পুরোনো প্রেমে।”

এই প্রত্যাবর্তন নিছকই কোনও আত্মগৌরব নয়, বরং লড়াইয়ের নতুন অধ্যায়ের শুরু। যাদের হাতে তাঁর স্বপ্নের পথে কাঁটা বিছানো হয়েছিল, তাদের চোখের সামনে দিয়েই তিনি আবার নতুন করে তৈরি হচ্ছেন। বরুণের এই প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে আরও একবার প্রমাণ করে দিল, সত্যিকারের শিল্পী কখনও হারিয়ে যায় না।

দর্শককেও দেখা গেল উৎসাহের চোখে বরুণ চক্রবর্তীর ফিরে আসার অপেক্ষায়। কেউ লিখছেন, “এই মানুষটার অভিনয় মিস করতাম।” কেউ বলছেন, “অভিনয়ের প্রতি নিষ্ঠা থাকলে কেউ আটকাতে পারে না।” ফলে বলা যায়, বরুণের এই কামব্যাক একদিকে যেমন ইন্ডাস্ট্রির গোপন গ্যাং কালচারের মুখোশ খুলে দিল, তেমনই অন্যদিকে আশার আলো দেখাল বহু হারিয়ে যাওয়া মুখদের।

Disclaimer: এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত মতামত, মন্তব্য বা বক্তব্যসমূহ সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত অভিব্যক্তি মাত্র। এটি আমাদের পোর্টালের মতামত বা অবস্থান নয়। কারও অনুভূতিতে আঘাত করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়, এবং এতে প্রকাশিত মতামতের জন্য আমরা কোনো প্রকার দায়ভার গ্রহণ করি না।

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page